ঢাকা , সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬ , ১৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
তানোরে বিএমডিএ'র সেচ প্রকল্প হুমকির মূখে নোয়াখালীতে দুই ভাটাকে ৪ লাখ টাকা জরিমানা ময়মনসিংহে বাক-প্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণের প্রধান আসামি চট্টগ্রামে গ্রেপ্তার নোয়াখালীতে খননের সময় মর্টার শেল উদ্ধার খাবারে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে বাসাবাড়িতে চুরি, খুনের অভিযোগে গৃহকর্মী বিলকিস গ্রেপ্তার হরমুজ খুলতে প্রস্তুত ইরান, শর্ত পারমাণবিক আলোচনা পরে: অ্যাক্সিওস যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে তিন ধাপের প্রস্তাব দিল ইরান, পারমাণবিক আলোচনা পরে বিয়ের প্রলোভনে ৯.৩৫ কোটি রুপি আত্মসাতের অভিযোগে আশু রেড্ডির বিরুদ্ধে মামলা নোয়াখালীতে ডেঙ্গু প্রতিরোধে খাল পরিস্কার কর্মসূচি নগরীর উন্নয়নে কাজ চলছে, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সমস্যাও পর্যায়ক্রমে সমাধান হবে: রাসিক প্রশাসক রিটন রাজশাহী চেম্বারের নতুন পরিচালনা পর্ষদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত মাইক বাজিয়ে আ.লীগের স্লোগান, পুলিশ দেখে পালালো যুবক চট্টগ্রামে বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড প্রথম টি-টোয়েন্টি আজ, বৃষ্টির শঙ্কা রাউজানে তিন দিনের ব্যবধানে আবারও গুলি করে হত্যা, নিহত বিএনপি কর্মী নাছির উদ্দিন এসএসসি পরীক্ষার হলে খোঁচাখুঁচিতে বিপাকে মেধাবীরা, মনোযোগ নষ্টের অভিযোগ নোয়াখালীতে বজ্রপাতে ব্যবসায়ীর মৃত্যু সোনাদিঘি জামে মসজিদের সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়নের লক্ষ্যে পরিদর্শনে রাসিক প্রশাসক রাজশাহীতে মোটর শ্রমিকদের মানববন্ধন, ইউনিয়ন কমিটি বাতিল ও নির্বাচনের দাবি বোয়ালিয়া মডেল থানার ওসিকে প্রত্যাহারের দাবিতে রাজশাহীতে মানববন্ধন হাম-রুবেলা টিকাদান বাস্তবায়নে রাসিকের স্বাস্থ্য বিভাগের সুপারভাইজারদের সাথে মতবিনিময়

কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে কৃষকদের সেই ‘গোলাঘর’

  • আপলোড সময় : ২১-১২-২০২৫ ০২:২২:৫৩ অপরাহ্ন
  • আপডেট সময় : ২১-১২-২০২৫ ০২:২২:৫৩ অপরাহ্ন
কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে  কৃষকদের সেই ‘গোলাঘর’ কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে কৃষকদের সেই ‘গোলাঘর’
গোলা ভরা ধান আর পুকুর ভরা মাছ- এটি গ্রাম বাংলায় প্রচলিত একটি প্রবাদ। বর্তমান সময়ে পুকুর ভরা মাছ থাকলেও নেই কেবল গোলাভরা ধান। কালের বিবর্তনে বিলুপ্তির পথে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য কৃষকদের ধান রাখার সেই ‘গোলাঘর’।

শস্য ভান্ডারখ্যাত দেশের বৃহত্তর নওগাঁ জেলা। এই জেলা ১১টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। মান্দা উপজেলার প্রাচীন ঐতিহ্য ধানের গোলা আজ প্রায় বিলুপ্তির পথে। এ অঞ্চলের কৃষকের ধান রাখার জন্য ধানের গোলা তেমন আর চোখে পড়ে না। আগে কৃষক বলতে গোয়াল ভরা গরু, পুকুর ভরা মাছ ও গোলা ভরা ধান এখন প্রবাদ বাক্যে পরিণত হতে চলেছে। অতীতে গ্রামবাংলার সমৃদ্ধির প্রতীক ধানের গোলা এখন বিলুপ্ত প্রায়।

 আধুনিকতার ছোঁয়ায় হারিয়ে যাচ্ছে কৃষিক্ষেত ও কৃষকের ঐতিহ্যবাহী ধানের গোলা। অতীতে গ্রামাঞ্চলের অধিকাংশ কৃষকের বাড়িতে ধান মজুদ রাখার জন্য বাঁশ, বেত ও কাদা দিয়ে তৈরি করা হতো গোলাঘর। এর পর তার গায়ে ভিতরে ও বাহিরে বেশ পুরু করে মাটির আস্তারণ লাগানো হত। চোরের ভয়ে এর মুখ বা প্রবেশ পথ রাখা হত বেশ উপরে।এক সময়ে সমাজের নেতৃত্ব নির্ভর করত কার কয়টি ধানের গোলা আছে এই হিসেব কষে। শুধু তাই নয় কন্যা ও বর পক্ষের বাড়ির ধানের গোলার খবর নিতো উভয় পক্ষের লোকজন। যা এখন শুধু কল্পকাহিনী। গোলাঘর দেখা যেত অনেক দূর থেকে। জানা গেছে, একটি গোলাঘর তৈরি করতে খরচ হতো ৮ থেকে ১০ হাজার টাকা। প্রতি বছর ধান কাটার মৌসুমে কৃষাণিরা গোলাঘর লেপে (মাটির আস্তর) প্রস্তুত করে রাখতো। আগের দিনে গোলাঘর দেখে অনুমান করা যেতো এলাকায় কে কত বড় জোতদার। গোলা ঘরের বদলে মানুষ এখন চট ও প্লাস্টিকের বস্তায় ধান ভরে ঘরে মজুদ রাখছেন।গোলা নির্মাণ করার জন্য বিভিন্ন এলাকায় আগে দক্ষ শ্রমিক ছিল। এখন আর দেশের বিভিন্ন জেলা শহর থেকে আসা গোলা নির্মাণ শ্রমিকদের দেখা মেলে না। তারা বাড়িতে এসে বাঁশ দিয়ে তৈরি করত ধানের গোলা। কাজ না থাকায় এখন তারা ভিন্ন পেশা বেছে নিয়েছে।এই গোলা ছিল সমভ্রান্ত কৃষক পরিবারের ঐতিহ্য। সে সময় ভাদ্র মাসে কাদা পানিতে ধান শুকাতে না পেরে কৃষকরা ভেজা আউশ ধান রেখে দিতো গোলা ভর্তি করে।

গোলায় শুকানো ভেজা ধানের চাল হত শক্ত। কিন্তু সম্প্রতি রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও আধুনিক কলের লাঙ্গল যেন উল্টে পাল্টে দিয়েছে গ্রাম অঞ্চলের চালচিত্র। গোলায় তোলার মত ধান আর তাদের থাকে না। গোলার পরিবর্তে কৃষকরা ধান রাখা শুরু করেছে আধুনিক গুদামঘরে। নতুন প্রজন্মের কাছে গোলাঘর একটি স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে।এ ব্যাপারে মান্দা উপজেলার নুরুল্যাবাদ মীরপাড়া গ্রামের ইকবাল জানান, গোলাঘর একটি পুরোনো ঐতিহ্য এটা আমার দাদার স্মৃতি এটা ১০০ বছরের পুরোনো আমার বাবা ব্যবহার করতো তার পর বর্তমানে আমি ব্যবহার কি এই গোলাঘর প্রায় (হারিয়ে) গেছে। একই গ্রামের অপর একজন বয়োবৃদ্ধ (মরিজান ) বলেন, আগে চরায় কাম কইরা জিরাইবার নেইগা গায়ের ধনী মানসে ঘরে কাচারি ঘরে গামছা পাইরা হুয়া থাকছি। এহুন ঠান্ডা নাগাইনা (এসি) কাচারি ঘর বানায়া তালা দিয়া থোয়।বাস্তবতা বড়ই নিষ্ঠুর।তারা জানান, আগের দিনে ধান রাখার জন্য গোলাঘর ব্যবহার করা হতো। গোলাঘরে ধান রাখায় ইঁদুর ও পোকামাকড়ের উৎপাত থেকে ফসল রক্ষা পেতো। একটি বড় গোলা ঘরে সাধারণত ২-৩শ’ মণ পর্যন্ত ধান রাখা যেতো। উপজেলার কয়েকটি বসত বাড়ির আঙ্গিনায় এখনো দেখা মেলে গোলাঘরের। তবে এতে এখন আর ধান রাখা হয় না। গ্রাম-বাংলার এ ঐতিহ্যটুকু শুধুই স্মৃতি হিসেবে রেখে দিয়েছেন তারা।

 আগামী প্রজন্মের কাছে গোলাঘর একটি স্মৃতিতে পরিণত হয়েছে। আধুনিক গুদাম ঘর ধানচাল রাখার জায়গা দখল করছে। ফলে গোলা ঘরের ঐতিহ্য হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম বাংলা থেকে।

নিউজটি আপডেট করেছেন : Rajshahir Somoy

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
নগরীর উন্নয়নে কাজ চলছে, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সমস্যাও পর্যায়ক্রমে সমাধান হবে: রাসিক প্রশাসক রিটন

নগরীর উন্নয়নে কাজ চলছে, ২৩ নম্বর ওয়ার্ডের সমস্যাও পর্যায়ক্রমে সমাধান হবে: রাসিক প্রশাসক রিটন